Tooth Point Dental Care

মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে কেন — কারণ ও সমাধান

ব্রাশ করলেই রক্ত? এটি স্বাভাবিক নয় — কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সহজে সারানো যায়।

ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ মাড়ির প্রদাহ (জিনজিভাইটিস), যা দাঁতের গোড়ায় জমে থাকা প্লাক ও পাথর থেকে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি স্কেলিং (১,০০০–২,০০০ টাকা) ও সঠিক নিয়মে ব্রাশ করলেই ১–২ সপ্তাহে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়।

৫ আগস্ট ২০২৬৫ মিনিট পড়ামাড়ির স্বাস্থ্য

মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার কারণ

সুস্থ মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে না

অনেকে ভাবেন ব্রাশ করলে একটু রক্ত পড়া স্বাভাবিক। তা নয়। সুস্থ মাড়ি গোলাপি, শক্ত এবং ব্রাশ করলে রক্ত পড়ে না। রক্ত পড়া মানে মাড়িতে প্রদাহ আছে।

প্রধান কারণ: প্লাক ও পাথর

খাওয়ার পর দাঁতের গায়ে নরম আঠালো একটি স্তর জমে — এটিই প্লাক। ঠিকমতো পরিষ্কার না হলে ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে এটি শক্ত হয়ে পাথর (ক্যালকুলাস) হয়ে যায়। পাথর ব্রাশে ওঠে না, এবং এর গায়ে জীবাণু জমে মাড়িতে প্রদাহ তৈরি করে। ফলাফল — লাল, ফোলা, রক্তপাতপ্রবণ মাড়ি।

অন্যান্য কারণ

সবচেয়ে বড় ভুল

রক্ত পড়ে বলে অনেকে ঐ জায়গায় ব্রাশ করা বন্ধ করে দেন। এটিই সবচেয়ে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত। ব্রাশ না করলে প্লাক আরও জমে, প্রদাহ বাড়ে, রক্তপাতও বাড়ে। বরং নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঐ জায়গাটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

ঘরে যা করবেন

সঠিক নিয়মে ব্রাশ শুরু করার প্রথম কয়েকদিন রক্ত একটু বাড়তে পারে — এটি স্বাভাবিক। এক-দুই সপ্তাহে কমে যাওয়ার কথা।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

দুই সপ্তাহ ঠিকমতো ব্রাশ করার পরও রক্ত পড়া না কমলে দাঁতে পাথর জমেছে ধরে নিতে হবে — সেটি শুধু স্কেলিং করেই তোলা সম্ভব। এছাড়া নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি করবেন না:

মাড়ির প্রদাহ (জিনজিভাইটিস) সম্পূর্ণ সারানো যায়। কিন্তু ফেলে রাখলে তা পেরিওডন্টাইটিসে পরিণত হয়, যেখানে দাঁতের চারপাশের হাড় ক্ষয়ে যায় — সেই হাড় আর ফিরে আসে না।

সিরিয়াল নিন

দাঁতের ব্যথা নিয়ে অপেক্ষা করবেন না

ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা কমলেও কারণটি থেকে যায়। মিরপুর ১২-এ আমাদের চেম্বারে প্রতিদিন বিকাল ৪টা – রাত ৯টা পর্যন্ত ডাক্তার বসেন।

সম্পর্কিত সেবা

সচরাচর জিজ্ঞাসা

সম্পর্কিত প্রশ্ন

হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। স্কেলিংয়ে পাথর তুলে ফেলার পর মাড়ির প্রদাহ কমতে শুরু করে এবং সাধারণত ১–২ সপ্তাহের মধ্যে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায় — যদি সাথে সঠিক নিয়মে ব্রাশ করা হয়।

হ্যাঁ, স্কেলিং গর্ভাবস্থায় নিরাপদ এবং দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে (৪–৬ মাস) করানোই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ডাক্তারকে গর্ভাবস্থার কথা আগে জানিয়ে দিন।

শুধু প্লাক জমার কারণে হলে সঠিক ব্রাশিংয়ে সেরে যেতে পারে। কিন্তু একবার শক্ত পাথর জমে গেলে সেটি ব্রাশে ওঠে না — তখন স্কেলিং ছাড়া সারবে না।

আরও পড়ুন

অন্যান্য লেখা

First-aid measures for toothache at home

দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায় — কী কাজ করে, কী করে না

ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ঘরে কী করলে আরাম মেলে, আর কোন “ঘরোয়া টোটকা” আসলে দাঁতের ক্ষতি করে।

Causes and treatment of bad breath

মুখে দুর্গন্ধ দূর করার উপায় — আসল কারণ ও সমাধান

মাউথওয়াশ গন্ধ ঢেকে রাখে, কারণ সারায় না। আসল কারণগুলো কী এবং কীভাবে দূর করবেন।

সিরিয়াল নিন

দাঁতের সমস্যা ফেলে রাখবেন না

ছোট সমস্যা সময়মতো দেখালে খরচ ও কষ্ট দুটোই কম হয়। আজই ফোন করে সময় ঠিক করে নিন — প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

Scroll to Top